"যে প্রেমেতে জগৎ সৃষ্টি, যে প্রেমে তাহার পুষ্টি , যে প্রেমেতে লয় দৃষ্টি,দাও নাথ সে রতন,,,, সত্যধর্ম্ম প্রেমরসে ডুবিতে চাও হে আশে,সদানন্দে প্রেমাবেশে মজিবে সুখ বিলাসে।ডুবিলে হয় যে স্বরূপ ভালোবাসা শিশুরূপ, চিরযৌবন প্রেম রূপ,প্রেমামৃত সুধা বরষে।প্রেম বিনা,প্রেম অঙ্গ না ধরে কোন রঙ। রসহীন জীবন ভঙ্গ,সকল মর্ম অসার সম"।
প্রেমের উপাসনা কিভাবে করতে হয়, গুরুদেব কোথায় কোথায় কিভাবে বলে গেছেন? আমার গন্তব্য স্থল যদি পূর্বদিকে হয় আর আমি যদি পশ্চিম দিকে পথ চলতে থাকি তাহলে কখনোই সঠিক স্থানে পৌঁছাতে পারব না।তেমনই ভুল উপাসনা করলে পাপ হয়। গুরুদেব তিনি বহু গুণে পারদর্শী তাই উপাসনায় যখন গুরু আহ্বান করব তখন যে গুণের উপাসনা গুরুদেবের কাছে সেই গুণের কথা জানাতে হয়।যদি প্রেম গুণের উপাসনা করি তাহলে প্রেমিক গুরুদেবকে ডাকতে হবে। যে গুণ আমি শিখতে চাইছি শিক্ষক অর্থাৎ গুরুকে সেই গুণের গান দ্বারা আহ্বান না করলে মিথ্যাচার করা হয়।
প্রেমে চাওয়া পাওয়া থাকে না তাই প্রেমের উপাসনায় কোন কাম্য বিষয়ক শব্দ ব্যবহার করা যায় না। উপাসনার দুটি অংশ যথা- গুণকীর্তন এবং স্বীয় পাপ কথন। পরমেশ্বর তিনি অনবরত দিচ্ছেন আমাদেরকে।তার গুণের বারবার উচ্চারণ গুণকীর্তন, এবং নিজের দোষ জানানো স্বীয় পাপ কথন। প্রেমের উপাসনায় 'পাপ' বিষয়ক শব্দ যেমন করুণাময়, দয়াময়,কৃপাময় শব্দগুলো ব্যবহার করা যায় না।পাপ থেকে মুক্তির জন্য প্রার্থনা অংশে বলতে হয় 'প্রেমহীনতা হেতু আত্মগ্লানি ভোগ'।
প্রেমের উপাসনায় ব্যবহৃত একটি গুরু আহ্বান। "বাজলো তোমার প্রেমের ধ্বনি,মাতলো যে ভুবন।আজ প্রেমেতে গুরুরও শুনি অমৃত দ্বারে,বাজলো,,,বাজলো তোমার প্রেমের ধ্বনি। সুখের টানে শীতল হাওয়ায় আগমনের গান গেয়ে যায়,আবাহনের বাঁশি শুনি,শুনিল অন্তরে। গানটির তাৎপর্য --- গুরু তোমার প্রেমের ধ্বনির শব্দে আমার হৃদয় মেতেছে। তুমি আমায় অমৃতের দ্বার দেখিয়েছ। সুখ অর্থাৎ প্রেমের টানে তোমায় আহ্বান জানাই তুমি এসো আমায় দিয়ে অনন্ত প্রেমময়ের উপাসনা করিয়ে নাও।
সত্যধর্ম প্রেমের খনি, সেখানে প্রেমে হাবুডুবু খাওয়া যায়,সর্বদা প্রেমের সুখের বিলাস উপলব্ধি করা যায়। ডুবতে পারলে প্রেমের অঙ্কুর ভালোবাসা তৈরি হয়। প্রেমের বৈশিষ্ট্য চিরযৌবন ধরে রাখে এর অঙ্কুর অর্থাৎ সূচনা হল ভালোবাসা। একজন মা তার সন্তানকে লালন পালন করে তাখন এক বছর বয়স পর্যন্ত সেই মায়ের সন্তানের প্রতি যে আকর্ষণ তা প্রেমের বৈশিষ্ট্য।প্রেম বিনা আমরা রঙিন হতে পারিনা,প্রেম সকল গুণের জননী এবং অন্যান্য গুণের গুণত্ব সংস্কার করে তাই প্রেমিক হতে পারলে অন্যান্য গুণ আত্মায় সহজে প্রবেশ করে। প্রেমের বীণার সুরে প্রেম ভাবের অধীন হওয়া যায়। গুরু তুমি নিত্য পরমেশ্বরের সঙ্গে অভেদ হয়ে আছো,সেই অভেদে আমায় সমর্পন করো। প্রেম রমন,অনন্ত অসীমের প্রতি তোমায় বেঁধে রাখবে যাতে তুমি গুণরত্ন আহরণ করতে পারো।প্রেমিক হতে চাও ? তাহলে গুরুনাথ সত্যধর্ম্ম মহামণ্ড কেন্দ্রে আসো তুমি প্রেমিক হতে পারবে।
আরেকটি গানে বলা হয়েছে প্রেমে স্বার্থ থাকে না, স্বার্থ থাকলে অভিমান হয় এই অভিমানের বিষ প্রেম রূপ অমৃত আস্বাদন করতে দেয় না। যে স্বার্থ বিষের দংশনে প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়। একই আসনে অর্থাৎ প্রেম গুণের উপাসনা একটি অঙ্ক,এই অঙ্কের সূত্র অনুযায়ী অঙ্ক মিলবে।
0 মন্তব্যসমূহ